গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও বদহজম – আজকের সময়ের সবচেয়ে কমন সমস্যা
![]() |
| helthandlifestylebd.blogspot.com |
এখনকার ব্যস্ত লাইফস্টাইল, জাঙ্ক ফুড, কাজের চাপ এবং অনিয়মিত ঘুমের কারণে গ্যাস, বদহজম ও অ্যাসিডিটি অনেকের নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেট ব্যথা, বুক জ্বালা, ঢেকুর, বমি ভাব, খাবার হজম না হওয়া—এসব সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে পরিপাকতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।
এই পোস্টে আমরা জানবো—
✔ গ্যাস/অ্যাসিডিটি কেন হয়
✔ সাধারণ লক্ষণ
✔ কোন খাবারগুলো এটি বাড়ায়
✔ কোন খাবারগুলো কমায়
✔ দ্রুত আরাম পাওয়ার ঘরোয়া টিপস
✔ দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা বন্ধ করার করণীয়
গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও বদহজম হওয়ার প্রধান কারণ
১. অত্যধিক ভাজা-পোড়া খাবার
চিকেন ফ্রাই, চিপস, পরোটা—এগুলো হজম হতে সময় নেয় এবং অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি করে।
২. অনিয়মিত খাবারের সময়
দুপুরে দেরিতে খাওয়া বা রাতে বেশি খাওয়া পেটের এসিড বাড়িয়ে দেয়।
৩. অতিরিক্ত চা-কফি
বিশেষ করে খালি পেটে চা বা কফি অ্যাসিডিটি বাড়ায়।
৪. সারা দিন বসে থাকা
ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি কম হলে হজমের গতি কমে যায়।
৫. স্ট্রেস ও টেনশন
স্ট্রেস হজম এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সাধারণ লক্ষণ
-
বুক জ্বালা বা হার্টবার্ন
-
বেশি ঢেকুর তোলা
-
পেট ফোলা
-
খাবারের পর ভারি লাগা
-
মাঝে মাঝে বমি ভাব
-
উপরের পেটে ব্যথা
যে খাবারগুলো গ্যাস/অ্যাসিডিটি বাড়ায়
-
সোডা/কোক
-
অতিরিক্ত লবণ
-
পিজ্জা, বার্গার
-
কাঁচা পেঁয়াজ
-
দুধ (কিছু মানুষের ক্ষেত্রে)
-
ডাল
-
বেশি মসলাযুক্ত খাবার
যে খাবারগুলো গ্যাস কমায়
-
কলা
-
খিচুড়ি
-
আইসোটনিক পানি
-
দই
-
আদা
-
জিরা পানি
-
আপেল
দ্রুত আরাম পাওয়ার ১২টি কার্যকর ঘরোয়া উপায়
১. জিরা পানি
এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চা চামচ জিরা ফোটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন।
২. গরম পানি ধীরে ধীরে পান করুন
এটি গ্যাস কমিয়ে হজম দ্রুত করে।
৩. আদা-লেবু চা
হজম এনজাইম সক্রিয় করে।
৪. কলা বা দই খান
এসিড ব্যালান্স করে।
৫. সোডা ওয়াটার সামান্য নিন
ঢেকুর উঠলে আরাম মেলে।
৬. খাওয়ার পরে অল্প হাঁটুন (১০–১৫ মিনিট)
হজমে অসাধারণ কাজ করে।
৭. খুব গরম খাবার বা আইসকোল্ড খাবার এড়ান
এসিডিটি বাড়ায়।
৮. রাতের খাবার শোয়ার ২–৩ ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন
৯. টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন
পেটের ওপর চাপ তৈরি হয়।
১০. পুদিনা পাতা চিবিয়ে খান
অ্যাসিডিটি কমায়।
১১. ছোট পরিমাণে বারবার খাবার খান
১২. খালি পেটে চা-কফি খাবেন না
দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস/অ্যাসিডিটি সমস্যা বন্ধ করার উপায়
-
প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা
-
জাঙ্ক ফুড সীমিত করা
-
প্রচুর পানি পান
-
নিয়মিত ঘুম
-
স্ট্রেস কমানো
-
রাত ৮টার মধ্যে ডিনার করার চেষ্টা
কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?
যদি নিচের যে কোনো একটি সমস্যা দেখা যায়:
-
বারবার বমি
-
খুব বেশি বুক জ্বালা
-
কালো বা খুব গাঢ় পায়খানা
-
বাম পাশে বা বুকে ব্যথা
-
খাবার খেলেই পেটে ব্যথা
তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
%20(1).png)
Comments
Post a Comment